Welcome to GSIS — Transforming Lives 24/7

You have any question? +88018123356

আসন্ন বৈশ্বিক ক্রাইসিস ও বাংলাদেশ

মো. আবু ইউসুফ
‎প্রেসিডেন্ট, GSISF
‎চেয়ারম্যান, লৌডস্টার এডুকেশন ফাউন্ডেশন
‎মার্চ ৩০, ২০২৬; ঢাকা।
‎(লেখাটা একটু বড়, সময় থাকলে পড়তে পারেন)

‎এটা নিশ্চিত যে, বিশ্ব একটা Resource-constrained era-তে ঢুকছে। হোক সেটা এখনই কিংবা কিছু বছর পর। তাই, যারা আগেভাগে ঝুঁকি মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত থাকবে, তারা টিকে যাবে। হতাশ কিংবা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত না হয়ে আমাদের উচিত পরিস্থিতিটা ভালোভাবে বুঝার চেষ্টা করা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া। এর লাভ হলো – পরিস্থিতি খারাপ হলেও আমরা প্রস্তুত, আর পরিস্থিতি যদি ভালো থাকে তো আমরা সবাই বেঁচে গেলাম।

‎১
‎আমাদের জীবদ্দশায় বৈশ্বিক পরিসরে দুটো মেজর ক্রাইসিস দেখেছি। একটা হলো ২০১০ সালের আগে হওয়া গ্লোবাল রিসেশন।
‎আর দ্বিতীয়ত ২০২০-২১ সালে হওয়া করোনা অতিমারী। আমার ধারনা এ দুটো আগামী দিনের সম্ভাব্য সংকটের তুলনায় খুবই নগন্য। কারণ উপরোক্ত সংকটগুলোর কারণে মানুষ কর্মহীন হয়েছে, অনেক লোক মারা গেছে কিন্তু বৈশ্বিক সম্পদ বিশেষ করে ভূগর্ভস্থ সম্পদ তথা তেল, গ্যাস খনিজ সম্পদ, পানি ইত্যাদিতে কোনো টান পড়েনি। বাড়তি যোগ হতে পারে কৃষিজ সম্পদ উৎপাদনে। তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হলে পরিবহন সংকট দেখা দিবে- যা নিত্য প্রয়োজনীয় মৎস্য ও কৃষি পণ্যের উৎপাদন ও বিতরণে চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। এবারের পরিস্থিতি অতিমাত্রায় ভয়ংকর হওয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এমনও হতে পারে যে, সামনের দিনগুলোতে আপনি ঘরে বসে থাকবেন, লকডাউনের জন্য নয়। বরং তেলের অভাবে গাড়ি, বাস, মোটরবাইক চলবে না সে কারণে। একইভাবে সংকট আসবে গ্যাসের ওপর। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর এমনকী শস্য উৎপাদনের ওপর।

‎২
‎এটা বাংলাদেশের একক কোনো সংকট নয়। বাংলাদেশের পাম্পে যেমন ভিড় দেখা দিচ্ছে, সেই চিত্র প্রতিবেশি দেশ ভারতসহ এশিয়ার প্রায় সব দেশেই একইভাবেই দৃশ্যমান হচ্ছে। মালয়েশিয়ায় ইতোমধ্যে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। যদিও মালয়েশিয়া নিজেরাও তেল উৎপাদন করে। আর বাংলাদেশ এক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবেই আমদানি নির্ভর। ফিলিপাইনে ক্রমবর্ধমান তেল সংকটের কারণে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে গতকাল। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় হেঁটে চলাচল করছে। সেই অবস্থা বাংলাদেশে ও হতে পারে। সরকারকে বাধ্য হয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানী সম্পদ ব্যবহারে রেশনিং সিস্টেম চালু করতে হতে পারে। এই পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে অন্য দেশে যাবেন- সেই উপায়ও নেই। কারণ, অনেক দেশেই বিমান রুট বন্ধ হয়ে গেছে। আর যেগুলো খোলা আছে- সেখানেও বিমান ভাড়া আগের তুলনায় ৫-৭ গুণ বেশি। কারণ বিমানের জেট ফুয়েলের দাম এরই মধ্যে একশ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

‎৩
‎বৈশ্বিক এ ধরনের চ্যালেঞ্জগুলোর কারণে ঘরোয়া রাজনীতি সামনের দিনগুলোতে মেজর কনসার্ন হয়ে থাকবে না বলে মনে হচ্ছে, যদিও সরকার কর্তৃক ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে অনিহা, গণভোট সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ, সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, এবং গণপরিবহনে অস্থিরতা ইত্যাদি নিয়ে টেনশন থাকবে।‌ সবচেয়ে বেশি টেনশন হবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, ঘরের চুলোর গ্যাস, বা গাড়ির তেলের অভাব আর লোডশেডিং। এমনকি খাবার পানির জন্যেও অনেক দেশে হাহাকার তৈরি হয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি যে পরিমাণ অবনতি হয়েছে, তাতে চলমান যুদ্ধ এ মুহুর্তে থামলেও এর রেশ কাটতে সময় লাগবে অনেক। অলরেডি ৩০ দিন যুদ্ধ চলছে। আরো ৩০ দিন চললে বিশ্ব এর লোড নিতে পারবে না। আর যদি ইসরাইল ইরানে নিউক্লিয়ার এ্যাটাক করে কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো দেশ সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে যায়, তাহলে বিশ্বজুড়ে চরম অস্থির পরিবেশ বিরাজ করবে।

‎===
‎বাংলাদেশের জন্য রয়েছে সম্ভাব্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ যেমন – বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি (Dollar Crisis)। বাংলাদেশ আমদানি নির্ভর (তেল, গ্যাস, খাদ্য, কাঁচামাল ইত্যাদি)। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি কমলে ডলার সংকট বাড়বে।‌ ফলশ্রুতিতে আমদানি ব্যয় বাড়বে, পণ্য ও সেবার দাম বাড়বে।

‎এছাড়াও ব্যাংকিং ও আর্থিক ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে খেলাপি ঋণ (NPL) বাড়া এবং বিনিয়োগ কমে যাওয়ার মাধ্যমে। ডিসেম্বর ২৪ এ খেলাপি ঋণ ছিল ১,৬৮২.৮০ কোটি, (১৯.৯০%) যা ডিসেম্বর ২৫শে এসে দাঁড়িয়েছে ১,৭৭৭.২০ কোটি, (৩১.২০%), স্ট্রৈইট ১২% বেশি।

‎===
‎তাহলে আমাদের করণীয় কী?
‎• ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে খাদ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা তৈরি করতে হবে রাষ্ট্রের পাশাপাশি। ২–৩ মাসের শুকনা খাবার (চাল, ডাল, তেল, আলু) ইত্যাদির সংস্থান করে রাখা। কিন্তু কোনভাবেই মজুতদারি না করা। ছোট স্কেলে হলে ও ছাদে কৃষি (Urban Farming) শুরু করা। গ্রাম শহর সকল জায়গায় চাষাবাদ এর ব্যবস্থা করা।

‎• বিকল্প জ্বালানি নিয়ে ভাবতে হবে। সোলার প্যানেল (ছোট হলেও), গ্যাসের বিকল্প (ইন্ডাকশন/বায়োগ্যাস) ইত্যাদি।

‎• আয় বৈচিত্র্য (Income Diversification)। শুধু চাকরির ওপর নির্ভর না করে: পাশাপাশি অনলাইন ইনকাম, ছোট ব্যবসা, জরুরী স্কিল ডেভেলপমেন্ট, freelancing ইত্যাদিতে focus করা এবং income কে multiply করার চেষ্টা করা এবং অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসী খরচ কমানোর করার চেষ্টা করা।

‎• পানি নিরাপত্তা। Apartment গুলোতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এর plant তৈরি করা। যা অনেক দেশেই বিদ্যমান আছে। গ্রাম এলাকায় টিউবওয়েল স্থাপন এবং নদীর পানি সংরক্ষণ ও পিউরিফিকেশন করা যেতে পারে।

‎• বিদেশ নির্ভরতা কমিয়ে লোকাল সোর্সিং বাড়ানো এবং লোকাল প্রোডাকশনে মনোযোগী হওয়া।সোলার, উইন্ড এর ব্যবহার বাড়িয়ে কৃষিকে আধুনিকীকরণ।

‎• বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত সাইকেল পরিবহনকে জনপ্রিয় করা এবং অটো রিক্সার পরিবর্তে প্যাডেল রিক্সা কে প্রাধান্য দেয়া।

‎• মানসিক ও সামাজিক প্রস্তুতি। যেকোনো দুর্যোগে আতঙ্ক নয়, প্রস্তুতি- এই নীতিতে কাজ করা।কমিউনিটি নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা এবং প্রয়োজনের রিসোর্স শেয়ার করা।

‎শেষ কথা–
‎সমস্যা যত গভীরই হোক না কেন সচেতনতার মাধ্যমে এবং পূর্ব প্রস্তুতির মাধ্যমে সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করা এবং back to roots পলিসিতে নিজের এবং পরিবারের খাবার নিজেরাই উৎপাদন করার উদ্যোগ গ্রহণ করাই বুদ্ধিমান এর কাজ। আমরা কিছুই হবে না বলে উড়িয়েও দিতে পারি। যেটা আমরা সবাই প্রত্যাশা করি, আল্লাহ চাহে তো যেন কিছুই যেন না হয়।